বেসকরারি সংস্থা ব্রাকের উদ্যোগে এবারের আমন চাষাবাদ কর্মসূচীর আওতায় পটুয়াখালীর কৃষকদেরকে দ্বিগুন দামে বীজ ধান কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ২৫ টাকা হলেও নির্দিষ্ট ডিলারের মাধ্যমে ব্রাক একই বীজ বিক্রি করছে ৫০ টাকা কেজি দরে। ফলে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভে বিরাজ করছে।
ব্রাক সুত্রে জানা গেছে, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংস¤পূর্ণ করতে ব্রাক কৃষি পূর্ণবাসন কর্মসূচী গ্রহণ করে। কৃষি জমিতে নিবিড়ভাবে ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দু’বছর মেয়াদী এ পূনর্বাসন কার্যক্রম আগামি ২০১১ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে।
এ কর্মসূচীর আওতায় পটুয়াখালী জেলার তিনটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই জমিতে বছর ব্যাপী বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এ কর্মসূচীর লক্ষ্য।
কর্মুসচির আওতায় পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও কলাপাড়া উপজেলায় আমন মৌসুমে ১,১৯৮ একর জমিতে চাষাবাদের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ১,৭৫৯ জন চাষীর সমন্বয়ে ৪০ টি ব্লক গঠন করা হয়েছে বলে ব্রাকের রিজিওনাল ম্যানেজার (আরএম) মো. মোহসিন জানান।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পভুক্ত কৃষকদেরকে প্রতি একর জমিতে আমন চাষাবাদের জন্য ৭ হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) বিতরণ করা হচ্ছে। এ টাকার মধ্যে প্রতি একরে ১২ কেজি বীজ ক্রয়ের জন্য ৬০০ টাকা (প্রতিকেজি ৫০ টাকা দরে), জমি চাষ করা জন্য ২০০০ টাকা, সার ৩ হাজার টাকা ও কীটনাশক কেনার জন্য আরও ১,৪০০ টাকা।
চাষীদেরকে উচ্চ ফলনশীল জাতের বিআর-১১, বি আর ৪১, বিআর-৪৪, বি আর-৩৪ প্রভৃতি জাতের ধান আবাদ করার জন্য নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে বীজ কেনার জন্য ব্রাকের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এসব কৃষকদের হাতে বীজ পৌছানোর জন্য ব্রাক প্রতি উপজেলায় একজন করে ডিলার নিয়োগ করেছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে শহরের থানাপাড়া সড়কের কৃষি ঘরের সত্বাধিকারি মো. মজিবুর রহমানকে। এ ডিলারের কাছ থেকেই নির্ধারিত মুল্যে কৃষকরা দ্বিগুন দামে বীজ কিনতে বাধ্য হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিলার মুজিবর রহমান প্রতি কেজি আমন বীজ ধান ৫০ টাকা দরে ব্রাকের কর্মসূচীর আওতাধীন কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে। অথচ একই বীজ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি-বীজ) মাত্র ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের ইসমাইল চৌকিদার জানান, ব্রাক টাকা দেয় তাই হেগো কতা মতন ডিলারের দোকান থেইক্যা দ্বিগুন বেশি দামে ধান কেনতে অয়।’
একই অভিযোগ পাশ্ববর্তী শারিখালী গ্রামের মতলেব মৃধা, সুলতান তালুকদারসহ আরও অনেক কৃষকের। এ ব্যাপারে ব্যাকের আরএম মো. মোহসিন জানান, আমরা বিএডিসির কাছ থেকে বীজ কিনতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাদের চাহিদার পরিমান ১৪.৩৭৬ মে. টন বীজ সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছে। ফলে আমরা আমাদের নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে নির্ধারিত দামে বীজ কেনার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। তবে ব্রাক কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্য মিথ্যা দাবি করে পটুয়াখালী বিএডিসি (বীজ)‘র স্টোর কিপার মো. জাহাঙ্গীর জানান, আমাদের গোডাউনে পর্যাপ্ত বীজ রয়েছে। চলতি আমন মৌসুমের জন্য পটুয়াখালী অঞ্চলের জন্য ৫৮৮.৭৭০ মে. টন বীজ বরাদ্দ পেয়েছি। এর মধ্যে মাত্র ২৭৫.৬৫৫ মে. টন বীজ কৃষকদের কাছে বিক্রি করতে পেরেছি। বাকি ৩১৩.১১৫ মে. টন বীজ আমাদের গোডাউনে অবিক্রিত পড়ে আছে। ব্রাকের কেউ বীজ কেনার জন্য তাদের সাথে যোগযোগ করেননি বলে তিনি জানান।
সোহরাব হোসেন, পটুয়াখালী। |