|
পটুয়াখালী জেলার উপজেলা সড়ক গুলোর এখন বেহাল দশা। এসব উপজেলার ১৪৮ কিঃ মিঃ সড়কের অর্ধেক সড়কই চলাচলের অনুপযোগী। চলতি বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। হরহামেশা ঘটছে দুর্ঘটনা আর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ তো আছেই।
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে বড় সড়ক ৮৬ কিঃ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট লেবুখালী-দুমকি-বগা-বাউফল-দশমিনা-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কটি দীর্ঘ সংস্কারাভাবে চলাচলের অণুপযোগী। এ সড়কে ৬০ কিঃ মিটার সিলকোটসহ কার্পেটিং করা হলেও প্রয়োজনীয় রনাবেণের অভাবে তাতে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খাতের। সড়কটি দুমকি থেকে বাউফল পর্যন্ত ২৫ কিঃ মিটার রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। ফলে রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল দারুনভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটির বাকি ২৬ কিঃ মিটার এইচবিবি করা হয়েছে ২০ বছর আগে। কিন্তু নির্মাণের পর এ সড়কে সংস্কারের আঁচর না লাগায় তাও চলাচলের অণুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই এ রাস্তার গর্তে আটকে থাকছে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ সুত্র জানিয়েছে, এ রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাখতে কমপে ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু গত বছর বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র দেড় কোটি টাকা যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।
এ রাস্তাটির সংস্কারে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। এ প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে পড়ে আছে বলে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে।
পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ-বেতাগী-কচুয়া ১৮ কিঃ মিটার সড়কের মাত্র ৭ কিঃ মিটার চলাচলের উপযোগী। বাকি ১১ কিঃ মিটার সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে ভারী বর্ষার সময় এ সড়কে যান বাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সড়কটির সংস্কারে ৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হলেও গত বছর রনাবেনের নামে এখানে পাওয়া গেছে মাত্র ৬০ লাখ টাকা।
১৩ কিঃ মিটার দৈর্ঘের পটুয়াখালী-লেবুখালী সড়কটি জাতীয় মহাসড়ক। এ সড়কটিও খানাখন্দতে ভরা। সড়কটির তেলিখালী ব্রীজটি নাজুক হওয়ায় ১২ বছর আগে করা হয়েছে বিকল্প সেতু। কিন্তু এ বিকল্প সেতুর উভয় পাড়ের সংযোগ রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজুক। এখানে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের বাস, ট্রাকসহ যানবাহন আটকা পড়ে। সৃষ্ট গর্তে পার্শ্ববর্তী পরিত্যাক্ত ব্রীজের স্লিপার খুলে দেয়া হয়েছে। এ স্লিপারের ওপর দিয়ে কোন রকমে ঝুঁকি নিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে জাতীয় মহাসড়ক হলেও লেবুখালী থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত সড়কটি মাত্র ১৮ ফুট চওড়া। অথচ জাতীয় মহাসড়কের প্রশস্ততা হচ্ছে ২৪ ফুট। ফলে সড়কটির প্রশস্ততা বাড়ানো দরকার হলেও সে উদ্যোগ নেই। এ সড়কটি সংস্কারে ৫ কোটি টাকা সম্প্রতি বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রম্সততা বাড়ানো হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। জাতীয় মহাসড়ক হওয়ার কারনে সড়কটির এ অংশের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে ঢাকাস্থ হেড অফিস থেকে। ফলে বিষয়টির ব্যাপারে স্থানীয় কর্তপক্ষ কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।
জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ কিঃ মিটার দৈর্ঘ্যরে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের অবস্থাও ভালো নয়। সড়কটির পটুয়াখালী থেকে কলাপাড়া পর্যন্ত ৫০ কিঃ মিটারে রয়েছে অসংখ্য খানা খন্দক। চলতি বর্ষ মৌসুমে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের কারনে রাস্তাটি চলাচলে ঝুকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়ক বিভাগ এসব গর্তে ইটের খোয়া আর বালু ফেলে যেনতেনভাবে রানবেনের চেষ্টা করলেও ২-৩ দিনের মাথায় তা বর্ষার প্রকোপে ওঠে যাচ্ছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী থেকে আমতলী পর্যন্ত ২৮ কিঃ মিটারের অবস্থা বেশি নাজুক।
সড়কটির কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২২ কিঃ মিটারের অর্ধেকাংশে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাকি অংশের কাজও প্রক্রিয়াধীন। এ অংশেও ব্যয় হবে ১৭ কোটি টাকা।
কলাপাড়া-কুয়াকাটা ২২ কিলোমিটার সড়কে ৩টি নদীতে ব্রীজ নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মহিপুর নদীর ওপর ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মানের কাজ এগিয়ে চলছে। হাজিপুর ব্রীজ নির্মানে আদালতে একটি মামলা সম্প্রতি সুরাহা হয়েছে। ৪০ কোটে টাকা ব্যয়ে এ নদীর ওপর ব্রীজ নির্মানে দরপত্র মূল্যায়ন চলছে বলে সওজ সূত্রে জানাগেছে।
খেপুপাড়া ৯০০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আন্দার মানিক নদীর ওপন খেপুপাড়া ব্রীজ নির্মানে বরাদ্ধ করা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। এ ব্রীজ নির্মানে দরপত্রের মূল্যায়ন হচ্ছে। হাজীপুর ও খেপুপাড়া ব্রীজের কার্যাদেশ শিগ্রই দেয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
পটুয়াখালী গণাচিপা সড়কের শাখারিয়া গলাচিপা অংশের ১৭ কি: মিটার রাস্তা খুবই নাজুক। এ সড়ক জুড়ে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দক থাকায় যাত্রীবাহী বাস সহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জেলা সদরের সাথে প্রতিদিন শতাধিক যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে এসব সড়কে। এছাড়াও রাজধানী ঢাকার সাথে ২০ টিরও বেশি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে থাকে। ফলে সড়কগুলো যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় যাত্রীদের পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বিশেষ করে উপজেলা সদর থেকে জেলা সদরে রোগী বহনের ক্ষেত্রে অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সওজ বিভাগ‘র নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পিরিয়ডিক মেনটেইনেন্স করে সড়কগুলো মোটামুটি সচল রাখার চেষ্টা করছি। সংস্কার বিহীন বিভিন্ন সড়কের মেরামত কাজ এগিয়ে চলেছে। তবে এখন পর্যন্ত মেরামতের জন্য যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। সড়কগুলো মেরামতের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র সড়ক গুলোর সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
সোহরাব হোসেন, পটুয়াখালী। |