|
”ইলিশ ভাজা খেতে মজা গরম গরম হলে” ছেলেবেলার পড়া সেই ছড়াটি প্রায় ভুলে যেতে বসেছিল কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকার জনসাধারন ।
অবশেষে জেলেদের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে ইলিশ। ইলিশ ধরার মৌসুম শুরুর প্রায় আড়াই মাস পর এবার মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরের জেলেরা বঙ্গোপসাগরে ইলিশের দেখা পেল।
বিগত ক’দিনে যেসব জেলে মাছ ধরার জন্য সাগরে গিয়েছিল তারা ট্রলার বোঝাই করে উপকূলে ফিরে এসেছে এবং লাখ লাখ টাকার ইলিশ মাছ বিক্রি করে আবার দ্রুত সাগরে পানে ছুটছে। জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ায় বিষন্ন মৎস্য বন্দরে আবার নতুন করে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য । মৎস্যজীবি ও বন্দরের শ্রমিকরা সরব হয়ে ওঠতে শুরু করেছে রুপালী ইলিশের আনন্দে। বিষন্ন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মুখেও তাই হাসি ফুটেছে। পাইকারি বাজারে মাছের দাম কমে গেছে। মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরের জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুরে দীর্ঘদিন ইলিশের আকাল শেষে গত শুক্রবার থেকে জেলেরা সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ ধরে ফিরতে শুরু করেছে মৎস্য বন্দর মহিপুর আলীপুরের উদ্দেশ্যে।
সাগর থেকে ফিরে আসা অধিকাংশ মাছ ধরা ট্রলারই ইলিশ বোঝাই। আড়ৎগুলোতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের অনেকদিন পর এখন ব্যস্ত দিন কাটছে। মহিপুর ও আলীপুরের অর্ধশতাধিক ইলিশের আড়তে একই চিত্র দেখা গেছে। এক একটি মাছ ধরা ট্রলার ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করছে। প্রতিটি ৭ শ থেকে ৮ শ’ গ্রাম ওজনের প্রতি মন ইলিশ ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মহিপুরের যমুনা আড়তে সমবায় সমিতির ট্রলার এফ,বি, ছোবাহান ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছে। মহিপুরের ফয়সাল ফিসের মালিক ও মহিপুর-আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী জানান, তার আড়তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিতরনকৃত ‘আশার আলো’র একটি ট্রলার ২৮ মন ইলিশ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। আলীপুরের সততা মৎস্য আড়তে সমবায় সমিতির এফ,বি, মিজান ট্রলার থেকে বিক্রি করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার টাকার ইলিশ। মহিপুরের গাজী ফিসে এফ,বি, কাকলী ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি করেছে। এছাড়া মহিপুরের তালুকদার ফিস, রুবেল ফিস, রাসেল ফিস, হাওলাদার ফিস এবং আলীপুরের আমেনা ফিস, মহেশখালী আড়ৎ, বাচ্চু ফিস, সততা ফিস সহ প্রতিটি ইলিশের আড়তে ছিল ইলিশের ছড়াছড়ি।
সাগরে ইলিশ পড়তে শুরু করায় দামও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। সাইজভেদে বর্তমানে প্রতিমণ ইলিশ ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত এক সপ্তাহ আগেও প্রতিমণ ইলিশ ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি। |